Logo
হোম রাজ্য দেশ বিনোদন খেলা অটো লাইফস্টাইল রাশিফল প্রযুক্তি প্রকল্প

হাওড়ায় বসছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় দই তৈরির কারখানা, ৭০০ কোটির প্রকল্পে ভাগ্য বদলাবে লক্ষাধিক দুগ্ধ চাষির

পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া ফুড পার্কে তৈরি হতে চলেছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় দই উৎপাদন কারখানা। প্রায় ৭০০ কোটি টাকা লগ্নিতে তৈরি হওয়া আমুল বেঙ্গল ডেয়ারি প্রকল্পের ভূমিপূজন করলেন কেন্দ্রীয় সমবায় মন্ত্রী অমিত শাহ। দৈনিক ৩০ লক্ষ লিটার দুধ প্রক্রিয়াকরণের ক্ষমতাসম্পন্ন এই কারখানায় উপকৃত হবেন রাজ্যের সোয়া লক্ষেরও বেশি দুগ্ধ চাষি।

১৯ July ২০২৬, ০৬:২০ PM আপডেট: ০৬ September ২০২৬, ০৭:৩৩ PM

পশ্চিমবঙ্গের দুগ্ধ শিল্পে বড়সড় বিনিয়োগের সাক্ষী থাকল রাজ্য। হাওড়া ফুড পার্কে আমুল বেঙ্গল ডেয়ারি প্রকল্পের আওতায় গড়ে উঠতে চলেছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় দই উৎপাদন কারখানা, যার আনুমানিক বিনিয়োগ প্রায় সাতশো কোটি টাকা। রবিবার কলকাতার নিউটাউন কনভেনশন সেন্টারে এই প্রকল্পের ভূমিপূজন সম্পন্ন করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র ও সমবায় মন্ত্রী অমিত শাহ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর "সহকার সে সমৃদ্ধি" ভাবনা এবং কেন্দ্রের হোয়াইট রেভোলিউশন ২.০ উদ্যোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবেই এই প্রকল্পকে দেখা হচ্ছে।

সমবায় মন্ত্রকের বিবৃতি অনুযায়ী, নির্মাণ সম্পূর্ণ হলে এই কারখানায় প্রতিদিন প্রায় ত্রিশ লক্ষ লিটার দুধ প্রক্রিয়াকরণ করা সম্ভব হবে, যেখানে দৈনিক প্রায় এক হাজার মেট্রিক টন অর্থাৎ দশ লক্ষ কেজি দই ও অন্যান্য কালচার্ড দুগ্ধজাত পণ্য উৎপাদিত হবে। এছাড়া প্রতিদিন দশ লক্ষ লিটার দুধ প্যাকেজিং, দুই লক্ষ লিটার ইউএইচটি দুধ প্রক্রিয়াকরণ, এক লক্ষ লিটার আইসক্রিম, কুড়ি মেট্রিক টন পনির এবং দশ মেট্রিক টন করে ঘি ও মিষ্টি উৎপাদনের ক্ষমতাও থাকবে এই সমন্বিত কারখানায়। পাশাপাশি প্রতিদিন প্রায় আড়াই লক্ষ প্যাকেট ফ্লেভার্ড মিল্কও তৈরি হবে এখান থেকে।

এই প্রকল্পের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়বে রাজ্যের দুগ্ধ চাষিদের জীবিকায়। মন্ত্রক জানিয়েছে, বর্তমানে ত্রিশ হাজারেরও বেশি মহিলা দুগ্ধ চাষি সহ সোয়া লক্ষেরও বেশি দুধ উৎপাদনকারী কৃষক আমুলের সমবায় নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন, এবং এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে রাজ্য থেকে প্রতিদিন প্রায় নয় লক্ষ লিটার দুধ সংগ্রহ করা হয়। নতুন কারখানা চালু হলে দুধের ন্যায্য বাজার ও আয় বৃদ্ধির সুযোগ আরও প্রসারিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে হোয়াইট রেভোলিউশন ২.০ উদ্যোগের আওতায় রাজ্যে নতুন গঠিত দুইশোরও বেশি ডেয়ারি কো-অপারেটিভ সোসাইটি এবং এগারোটি নতুন নথিভুক্ত মাল্টিপারপাস রুরাল কো-অপারেটিভ সোসাইটির প্রতিনিধিদের হাতে প্রতীকী নিবন্ধন সার্টিফিকেট তুলে দেন অমিত শাহ। পাশাপাশি তিনি চালু করেন ই-আরসিএস পোর্টাল, যার মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গে সমবায় সোসাইটি নিবন্ধকের দফতরের কম্পিউটারাইজেশন হবে এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও ডিজিটাল হয়ে উঠবে।

দুগ্ধ প্রকল্প ছাড়াও এই সফরে একাধিক পরিকাঠামোগত প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। দেশের বৃহত্তম শস্য মজুতকরণ কর্মসূচির আওতায় দশটি জেলায় মোট ১,৪০০ মেট্রিক টন ধারণক্ষমতাসম্পন্ন চোদ্দোটি গুদামের শিলান্যাস করা হয়, যার আনুমানিক নির্মাণ ব্যয় প্রায় ৫.৯৮ কোটি টাকা। এর পাশাপাশি দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও কোচবিহারে ইতিমধ্যে নির্মিত একশো মেট্রিক টন ধারণক্ষমতার দুটি গুদামেরও উদ্বোধন হয়, যেগুলি তৈরি হয়েছে প্রায় ৭৩.৬১ লক্ষ টাকা ব্যয়ে। অনুষ্ঠানে রাজ্যের তথ্যপ্রযুক্তি ও ইলেকট্রনিক্স দফতর এবং ভারত ট্যাক্সির মধ্যে একটি সমঝোতাপত্রও স্বাক্ষরিত হয়, যার লক্ষ্য রাজ্যে গণপরিবহণ ও মোবিলিটি পরিষেবার সম্প্রসারণ।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, দুগ্ধ প্রকল্পের অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার আগে অমিত শাহ রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে একটি পর্যালোচনা বৈঠকও করেন। সম্প্রতি পাশ হওয়া পশ্চিমবঙ্গ পাবলিক সেফটি অ্যান্ড কন্ট্রোল অফ অ্যান্টি-সোশ্যাল অ্যাক্টিভিটিজ আইন, ২০২৬ যা সাধারণভাবে 'গুন্ডা দমন আইন' নামে পরিচিত এবং যা সংগঠিত অপরাধ ও জনবিশৃঙ্খলা রুখতে প্রশাসনকে ব্যাপক ক্ষমতা দিয়েছে তার প্রেক্ষাপটেই এই বৈঠকের গুরুত্ব বেড়ে যায়। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর রাজনৈতিক হিংসা ও নারী নিরাপত্তা সংক্রান্ত কড়া পদক্ষেপের দাবির প্রেক্ষিতেও এই আলোচনা তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। এছাড়া কলকাতার আলিপুরে ন্যাশনাল লাইব্রেরি চত্বরে সদ্য নির্মিত 'ওয়ার্ড মিউজিয়াম'ও উদ্বোধন করার কথা তাঁর।

আমুলের এই দই কারখানার ভূমিপূজন অমিত শাহের তিন দিনের বঙ্গ সফরের শেষ কর্মসূচি। এর আগে শনিবার শিলিগুড়িতে সীমান্ত সুরক্ষা নিয়ে বিএসএফ ফাঁড়ি পরিদর্শন করেন তিনি এবং রাজ্য সচিবালয়ের উত্তরবঙ্গ শাখায় একাধিক প্রশাসনিক বৈঠকেও অংশ নেন। সব মিলিয়ে দুগ্ধ শিল্পে বিনিয়োগ থেকে পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং আইনশৃঙ্খলা পর্যালোচনা এই সফরে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় একসঙ্গে জড়িয়ে থাকল বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

Rajdeep

Rajdeep

রাজদীপ একজন ডিজিটাল প্রকাশক। তিনি তথ্যনির্ভর, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য সংবাদ এবং বিশ্লেষণ পাঠকদের কাছে সহজ ভাষায় উপস্থাপন করতে আগ্রহী। তথ্য যাচাই, গভীর গবেষণা এবং নির্ভুল প্রতিবেদনের মাধ্যমে পাঠকদের সঠিক তথ্য পৌঁছে দেওয়াই তাঁর মূল লক্ষ্য।

সব লেখা দেখুন