প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর একটি ফেসবুক ভিডিও সাময়িকভাবে অনুপলব্ধ হওয়াকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। মেটা জানিয়েছে, ভিডিওটি ইচ্ছাকৃতভাবে সরানো হয়নি; এটি একটি প্রযুক্তিগত ত্রুটির ফলে ঘটেছে এবং পরে কনটেন্ট পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাটি সামনে আসার পর কেন্দ্রীয় সরকার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে, এবং মেটার শীর্ষকর্তাদের কাছ থেকে ব্যাখ্যা চাওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।
জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী মোদীর একটি সেলফি-স্টাইল ভিডিও ফেসবুকে কিছু সময়ের জন্য দেখা যাচ্ছিল না, ফলে ব্যবহারকারীরা "নট অ্যাভেইলেবল" ধরনের বার্তা দেখতে পান। ওই ভিডিওটি মূলত দেশের তরুণদের উদ্দেশে দেওয়া বার্তা, যেখানে শিক্ষা-সংক্রান্ত উদ্বেগ এবং পেপার লিক ইস্যুতে সরকারের অবস্থান তুলে ধরা হয়েছিল। পরবর্তীতে মেটার পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভিডিওটি ভুলবশত সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল এবং দ্রুতই তা পুনরায় প্ল্যাটফর্মে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
Facebook has crossed every limit. It has blocked Prime Minister Narendra Modi’s post on strict action against paper leaks from being seen in India.
— Tajinder Bagga (@TajinderBagga) July 27, 2026
Who gave this foreign platform the authority to censor India’s Prime Minister and decide what Indians are allowed to read?
This is… pic.twitter.com/6uNiqYk13Q
মেটা প্রকাশিত বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে বলেছে, কনটেন্ট "রিমুভড ইন এরর" এবং এখন রিস্টোর করা হয়েছে। সংস্থার ব্যাখ্যায় কোনো সরকারি নির্দেশ বা ইচ্ছাকৃত মডারেশনের কথা উল্লেখ করা হয়নি। তবে এই ধরনের ঘটনার কারণে সোশ্যাল মিডিয়া মডারেশন, প্ল্যাটফর্ম অ্যাকাউন্টেবিলিটি এবং অটোমেটেড সিস্টেমের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে আবারও প্রশ্ন উঠেছে।
সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, বিষয়টি হালকাভাবে দেখা হচ্ছে না এবং কীভাবে ভিডিওটি সরানো হল, সে বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা চাওয়া হবে। মেটার পাবলিক পলিসি হেড বা সংশ্লিষ্ট সিনিয়র অফিসিয়ালদের ডেকে পাঠানোর সম্ভাবনা রয়েছে। প্রশাসনের একটি বড় উদ্বেগ হলো একজন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী-সংক্রান্ত পোস্ট যদি এমনভাবে বিঘ্নিত হয়, তবে প্ল্যাটফর্ম গভর্নেন্সের মানদণ্ড নিয়ে জনমনে ভুল বার্তা যেতে পারে।
এই ঘটনা শুধু একটি প্রযুক্তিগত ত্রুটি নয়; বরং বৃহত্তর ডিজিটাল গভর্নেন্সের প্রশ্নও সামনে এনেছে। আজকের দিনে রাজনৈতিক বার্তা, পাবলিক কমিউনিকেশন এবং নাগরিকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের বড় অংশই সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। ফলে কোনো হাই-প্রোফাইল কনটেন্ট ভুলভাবে ব্লক বা রিমুভ হলে তার প্রভাব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, এবং সেটি রাজনৈতিক সংবেদনশীলতা তৈরি করে।
মেটা অ্যাপোলজি দিলেও বিতর্ক এখানেই থামছে না, কারণ সরকার এখন প্ল্যাটফর্মের ইন্টারনাল প্রসেস, এরর-চেকিং মেকানিজম এবং কনটেন্ট রিস্টোরেশন প্রোটোকল নিয়ে ব্যাখ্যা চাইতে পারে। এই ঘটনার ফলে ভবিষ্যতে হাই-প্রোফাইল কনটেন্ট মডারেশন আরও সতর্কভাবে পরিচালিত হবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ট্রান্সপারেন্সি, রেসপন্স টাইম এবং অটোমেটেড মডারেশনের রিলায়েবিলিটি এই তিনটি বিষয় এখন নতুন করে আলোচনায় এসেছে।





