Logo
হোম রাজ্য দেশ বিনোদন খেলা অটো লাইফস্টাইল রাশিফল প্রযুক্তি প্রকল্প

সোশ্যাল মিডিয়ায় ২৪x৭ নজরদারি War Room, ভুয়ো খবরের বিরুদ্ধে নতুন কৌশল শুভেন্দু সরকারের

ভুয়ো খবর ও misinformation রুখতে শুভেন্দু সরকারের নতুন Social Media War Room, ২৪x৭ নজরদারিতে থাকবে সব digital platforms।

২৭ July ২০২৬, ১১:০৯ AM আপডেট: ০৭ September ২০২৬, ০৪:৫৪ PM

পশ্চিমবঙ্গ সরকার রাজ্যে ভুয়ো খবর ও অপপ্রচার রুখতে নতুন একটি উদ্যোগ নিয়েছে। নবান্নে গড়ে তোলা হয়েছে ২৪x৭ কাজ করা একটি সোশ্যাল মিডিয়া ওয়ার রুম। এর লক্ষ্য মিসইনফরমেশন, ফেক নিউজ এবং বিভ্রান্তিকর ন্যারেটিভের বিরুদ্ধে দ্রুত ও তথ্যনির্ভর প্রতিক্রিয়া তৈরি করা।

তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের নির্দেশিকা অনুযায়ী, এই ওয়ার রুম থেকে শুধু সোশ্যাল মিডিয়াই নয়, প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও ডিজিটাল সহ সব ধরনের নিউজ ও কনটেন্ট প্ল্যাটফর্মের উপর নজর রাখা হবে। রাজ্যের জনশৃঙ্খলা, সরকারি কাজকর্ম এবং ভাবমূর্তি নষ্ট করতে পারে এমন ভুল তথ্য দ্রুত চিহ্নিত করে সংশোধন করা হবে।

সরকারি আধিকারিকদের মতে, রাজ্যজুড়ে বিভিন্ন ঘটনাকে ঘিরে ভুয়ো ছবি, বিকৃত ভিডিও ও উস্কানিমূলক পোস্টের সংখ্যা বাড়ছে। এই কারণে এই কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র তৈরি করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাড়তি ক্ষমতা অর্জন করতে চাইছে প্রশাসন।

কীভাবে কাজ করবে এই ওয়ার রুম?

নতুন এই ওয়ার রুম মূলত একটি সমন্বয় কেন্দ্র, যেখানে প্রশিক্ষিত টিম সারাদিন রাত বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের কনটেন্ট নজরে রাখবে। ফেসবুক, এক্স, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউবের পাশাপাশি অনলাইন নিউজ পোর্টাল, ব্লগ এবং হোয়াটসঅ্যাপ টেলিগ্রামের মতো মেসেজিং প্ল্যাটফর্মগুলির উপরেও নজর বাড়ানোর কথা রয়েছে।

প্রথম ধাপে সন্দেহজনক বা সম্ভাব্য ভুল তথ্য, গুজব বা উস্কানিমূলক পোস্টকে চিহ্নিত করা হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট দফতর ও জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে সেই তথ্য যাচাই করে কার্যকর প্রতিক্রিয়া প্রস্তুত করা হবে। ওয়ার রুম নিয়মিত রিপোর্ট পাঠাবে জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দফতরে, প্রয়োজনে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকেও সতর্ক করা হবে।

কেন এই পদক্ষেপ?

সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে ভুল তথ্য, অপপ্রচার ও ভুয়ো খবরজনিত চ্যালেঞ্জ জনশৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক কাজকর্মের জন্য উদ্বেগ তৈরি করেছে। নানা ঘটনায় দেখা গেছে, সোশ্যাল মিডিয়া ভিত্তিক গুজবের ফলে স্থানীয় উত্তেজনা বেড়েছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নড়বড়ে হয়েছে এবং কখনও সরকারি সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শাসক দল ও প্রশাসনের অভিযোগ, সংগঠিতভাবে ভুয়ো ছবি, পুরনো ভিডিও বা প্রেক্ষিত বদলা ফুটেজ ব্যবহার করে রাজনৈতিক প্রচার এবং ঘৃণামূলক ন্যারেটিভ গড়ে তোলার চেষ্টা হচ্ছে।

মুখ্যমন্ত্রীর সরকার যে শূন্য সহিষ্ণুতা বার্তা দুর্নীতি ও অরাজকতার বিরুদ্ধে দিচ্ছে, তার পরিপূরক হিসেবে মিডিয়া স্পেসে ভুল তথ্যের বিরুদ্ধে এই নতুন ওয়ার রুমকে দেখা হচ্ছে। সরকারের দাবি, এটি কোনও সেন্সরশিপ মডেল নয়, বরং সত্যনির্ভর যোগাযোগ জোরদার করার একটি প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা।

বাকস্বাধীনতা বনাম নজরদারি

তথ্য ভুয়ো হলে তাকে চ্যালেঞ্জ করার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে অনেক বিশেষজ্ঞ একমত হলেও, এই ধরনের ২৪x৭ নজরদারি ব্যবস্থাকে ঘিরে বাকস্বাধীনতার প্রশ্ন ইতিমধ্যেই আলোচনায় উঠেছে। এর আগে সরকারি আধিকারিক ও কর্মীদের জন্য মিডিয়া যোগাযোগ এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় মন্তব্যের উপর কড়া নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছিল নবান্ন। তার ধারাবাহিকতায় এখন ওয়ার রুম তৈরি করে সব প্ল্যাটফর্মের কনটেন্ট নজরে রাখার সিদ্ধান্ত সমালোচকদের কাছে নজরদারি বাড়ানোর পদক্ষেপ হিসেবে ধরা পড়ছে।

নীতিবিশ্লেষকদের একাংশের মত, ভুয়ো তথ্য চিহ্নিত করা এবং সঠিক তথ্য প্রচারে সরকারের উদ্যোগ স্বাগত। তবে এই প্রক্রিয়া কতটা স্বচ্ছ থাকবে, কীভাবে নির্ধারিত হবে কোন তথ্যকে মিসইনফরমেশন হিসেবে গণ্য করা হবে এবং নাগরিকের গোপনীয়তা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা কতটা সুরক্ষিত থাকবে   এই প্রশ্নগুলির উত্তর পরিষ্কার হওয়া জরুরি। সরকার এখনো পর্যন্ত নজরদারির সীমা ও নাগরিক অধিকার রক্ষার জন্য কোনো স্বাধীন পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার কথা জানায়নি।

ডিজিটাল যুগে তথ্য ব্যবস্থা ক্রমশ জটিল হচ্ছে। নির্বাচনী রাজনীতি, সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা, প্রশাসনিক পদক্ষেপ  সব ক্ষেত্রেই বর্ণনা যুদ্ধ এখন সোশ্যাল মিডিয়ার উপর নির্ভরশীল। এই প্রেক্ষিতে মুখ্যমন্ত্রীর সোশ্যাল মিডিয়া ওয়ার রুম রাজ্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে তথ্যযুদ্ধের এক নতুন পর্যায়ের সূচনা, যেখানে লক্ষ্য থাকবে দ্রুত ফ্যাক্ট-চেকিং, পাল্টা বর্ণনা তৈরি এবং সংগঠিতভাবে ভুল তথ্যের মোকাবিলা।

বিশেষজ্ঞদের অনেকে মনে করছেন, এই ওয়ার রুম যদি স্বচ্ছ নীতিমালা, স্পষ্ট জবাবদিহিতা এবং পরিষ্কার অভিযোগ নিষ্পত্তির কাঠামো নিয়ে কাজ করে, তা হলে জনশৃঙ্খলা ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় এটি কার্যকর হাতিয়ার হতে পারে। কিন্তু যদি নজরদারির পরিধি ও উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্নের উত্তর না পাওয়া যায়, অথবা রাজনৈতিক মতানৈক্য দমনে এটি ব্যবহৃত হয়, সে ক্ষেত্রে বাকস্বাধীনতা ও স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের উপরে চাপ বাড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

ফলে, ভুয়ো খবরের বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ একদিকে ডিজিটাল শাসনের পরবর্তী ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে, অন্যদিকে তা রাজ্যের জনপরিসরে নিয়ন্ত্রণ বনাম স্বাধীনতা বিতর্ককে আরও তীব্র করে তুলতে পারে, যার প্রভাব আগামী কয়েক বছর ধরে বাংলার রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতায় স্পষ্টভাবে ধরা পড়বে।

Rajdeep

Rajdeep

রাজদীপ একজন ডিজিটাল প্রকাশক। তিনি তথ্যনির্ভর, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য সংবাদ এবং বিশ্লেষণ পাঠকদের কাছে সহজ ভাষায় উপস্থাপন করতে আগ্রহী। তথ্য যাচাই, গভীর গবেষণা এবং নির্ভুল প্রতিবেদনের মাধ্যমে পাঠকদের সঠিক তথ্য পৌঁছে দেওয়াই তাঁর মূল লক্ষ্য।

সব লেখা দেখুন