কয়লা পাচার মামলার তদন্তে মঙ্গলবার সকালে ঝাড়খণ্ডের ধানবাদে একযোগে ইডি রেইড শুরু হয়, আর তাতেই নতুন করে আলোচনায় আসে অবৈধ কয়লা নেটওয়ার্কের প্রসার ও আর্থিক সংযোগ। তদন্তকারীরা ২৫টিরও বেশি ঠিকানায় তল্লাশি চালান বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, যেগুলির মধ্যে ব্যবসায়ী, সহযোগী এবং কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম সামনে এসেছে।
তদন্তকারী সূত্রে ইঙ্গিত, এই অভিযান শুধুমাত্র কয়লা তোলার অপরাধে সীমিত নয়, বরং তার সঙ্গে যুক্ত লেনদেন, সম্পত্তি, ব্যবসায়িক নথি এবং সম্ভাব্য মানি লন্ডারিংয়ের দিকও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সকাল ৬টা থেকে শুরু হওয়া অভিযানে একাধিক টিম সমান্তরালভাবে কাজ করে।
কোন কোন এলাকায় তল্লাশি
খবর অনুযায়ী, ধানবাদের ঝরিয়া, কেন্দুয়া, লয়াবাদ, কাত্রাস, টিকিয়াপাড়া, মাহুদা-সহ বিভিন্ন এলাকায় এই সার্চ অপারেশন চলে। কিছু প্রতিবেদনে নালন্দা কটেজ, সারাইঢেলা এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্ট এবং একাধিক ব্যবসায়িক ঠিকানার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
তদন্তের রাডারে থাকা নামগুলির মধ্যে এলবি সিং, অনিল গোয়েল, গণেশ যাদব, পাপ্পু মণ্ডল, অনুপ চৌহান, হরেন্দ্র চৌহান এবং প্রাক্তন বিধানসভা প্রার্থী রোহিত যাদবের কথা উঠে এসেছে। তাঁদের সহযোগীদের উপরেও নজর রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।
ইডির এই তল্লাশির মূল লক্ষ্য বলে মনে করা হচ্ছে অবৈধ কয়লা পরিবহন, মজুত এবং সেখান থেকে অর্জিত সম্পদের উৎস। তদন্তকারীরা ব্যাংক লেনদেন, সম্পত্তির নথি, ব্যবসায়িক কাগজপত্র এবং ডিজিটাল প্রমাণ যাচাই করছেন। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, চারটি পৃথক ইসিআইআরের ভিত্তিতে এই তদন্ত এগোচ্ছে।
এর আগে ঝাড়খণ্ড ও পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে কয়লা পাচার সংক্রান্ত মামলায় একাধিক দফায় অভিযান চলেছে, যেখানে নগদ, সোনা, জমির নথি ও অন্যান্য কাগজপত্র উদ্ধারের খবরও সামনে এসেছিল। সাম্প্রতিক পদক্ষেপে তদন্ত আরও সংগঠিত ও বিস্তৃত পর্যায়ে পৌঁছেছে বলেই মনে করা হচ্ছে।
আগের তদন্তের ধারাবাহিকতা
কয়লা পাচার ইস্যু নতুন নয়। ২০২০ সালের পর থেকে অবৈধ খনি, পরিবহন এবং মজুত নিয়ে একাধিক এফআইআর, সিবিআই তদন্ত এবং পরে ইডি তদন্ত সামনে এসেছে। পশ্চিমবঙ্গ ও ঝাড়খণ্ডের কয়লাঞ্চলে বহুবার তল্লাশি হয়েছে, এবং প্রতিবারই ব্যবসায়ী-রাজনৈতিক-প্রশাসনিক যোগসূত্র নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ধানবাদের মতো কয়লা বেল্ট এলাকায় এই ধরনের অভিযান শুধুমাত্র একটি জেলার ঘটনা নয়; বরং তা গোটা পূর্ব ভারতের কয়লা অর্থনীতির দুর্বলতা, সাপ্লাই চেইনের অনিয়ম এবং আর্থিক অপরাধের বিস্তৃত মানচিত্র তুলে ধরে। সেই কারণেই তদন্তকারীরা স্থানীয় নেটওয়ার্কের পাশাপাশি লেনদেনের বৃহত্তর স্তরও ধরতে চাইছেন।
এই অভিযান থেকে নতুন নথি, ডিজিটাল ট্রেইল বা সম্পত্তি সংযোগ সামনে এলে তদন্তের গতি আরও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে কয়লা ব্যবসা ও আউটসোর্সিং ইকোসিস্টেমের উপর নিয়ন্ত্রণ কড়াকড়ি হওয়ার সম্ভাবনাও আছে।মোটের উপর, ধানবাদ-কেন্দ্রিক এই কয়লা পাচার মামলা আবারও দেখাল যে অবৈধ কয়লা বাণিজ্য কেবল একটি অপরাধ নয়, এটি একটি সুসংগঠিত আর্থিক নেটওয়ার্ক, যার প্রভাব প্রশাসন, রাজনীতি এবং শিল্প-পরিকাঠামো সবখানেই পড়তে পারে।





