Logo
হোম রাজ্য দেশ বিনোদন খেলা অটো লাইফস্টাইল রাশিফল প্রযুক্তি প্রকল্প

জন্ম-মৃত্যু Registration-এর দায়িত্ব এবার সরকারি আধিকারিকদের হাতে, বাতিল পঞ্চায়েত প্রধানদের ক্ষমতা

পশ্চিমবঙ্গ সরকার Birth ও Death Certificate ইস্যুর দায়িত্ব Panchayat Pradhan ও পুরপ্রধানদের থেকে সরিয়ে Government Officials-এর হাতে দিল। জালিয়াতি রোধে এই বড় প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত।

২৪ July ২০২৬, ১১:৪১ PM আপডেট: ০৬ September ২০২৬, ০৭:২৪ PM

রাজ্যে জন্ম ও মৃত্যু সংক্রান্ত শংসাপত্র বা Birth and Death Certificate ইস্যু করার ক্ষমতা নিয়ে বড়সড় প্রশাসনিক পরিবর্তন আনল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। এখন থেকে পঞ্চায়েত প্রধান এবং পুরসভার চেয়ারপার্সন বা এক্সিকিউটিভ অফিসারদের হাতে থাকা এই দায়িত্ব সম্পূর্ণভাবে তুলে দেওয়া হল সরকারি আধিকারিকদের হাতে। এই মর্মে একটি সরকারি নোটিফিকেশন জারি করেছে রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর এবং বিষয়টি একটি এক্স (X) পোস্টে নিশ্চিত করেছেন মুখ্যমন্ত্রী সুবেন্দু অধিকারী। 

নতুন কাঠামোয় কে কী দায়িত্বে

নতুন ব্যবস্থা অনুযায়ী প্রতিটি রেভিনিউ ডিস্ট্রিক্টের ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট বা DM এখন থেকে সেই জেলার District Registrar of Births and Deaths হিসেবে কাজ করবেন যার ফলে জেলাস্তরে সমন্বয় আরও সুসংগঠিত হবে বলে জানানো হয়েছে । এর পাশাপাশি ব্লক মেডিক্যাল অফিসার অফ হেলথ (BMOH) গ্রামীণ হাসপাতালের সুপারিনটেনডেন্ট এবং মেডিক্যাল কলেজের প্রধানরা তাঁদের নিজ নিজ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ঘটে যাওয়া সমস্ত ইনস্টিটিউশনাল বার্থ ও ডেথের ক্ষেত্রে Registrar হিসেবে কাজ করবেন । প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েত এবং পুরসভায় রেকর্ড-কিপিং প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ করার লক্ষ্যে এখন থেকে বিশেষভাবে নিযুক্ত সরকারি অফিসাররাই এই দায়িত্ব সামলাবেন যা আগে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের হাতে থাকত।

জালিয়াতির অভিযোগেই সিদ্ধান্ত

রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল সাংবাদিকদের জানিয়েছেন একাধিক জেলায় গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান পুরপ্রধান এবং পুর কর্পোরেশনের মেয়রদের ইস্যু করা বহু শংসাপত্র ভুয়ো বলে প্রমাণিত হওয়ার পরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে । রাজ্য মন্ত্রিসভা এই সপ্তাহে DM-দের রাজ্যজুড়ে বার্থ সার্টিফিকেট ইস্যু করার ক্ষমতা প্রদানের প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে । এই সিদ্ধান্তের দিনই বিভিন্ন জেলার স্থানীয় প্রশাসনিক দফতরে পুলিশ ও প্রশাসনিক আধিকারিকরা তল্লাশি চালান যা জন্ম-মৃত্যুর শংসাপত্র ইস্যুতে অনিয়মের অভিযোগের তদন্তের অংশ । Special Intensive Revision বা SIR প্রক্রিয়ার সময় একাধিক জেলা থেকে জন্ম শংসাপত্রে অনিয়মের রিপোর্ট আসার পরই কেন্দ্রীয়ভাবে এই ব্যবস্থা কঠোর করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে রাজ্য সরকার।

ডিজিটাইজেশন ও পুনর্যাচাই প্রক্রিয়া

মুখ্যসচিব আরও জানিয়েছেন গ্রাম পঞ্চায়েত পুরসভা এবং পুর কর্পোরেশনে রক্ষিত সমস্ত জন্ম-মৃত্যু রেজিস্টার ডিজিটাইজ করার একটি বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে যা আগামী কয়েক দিন চলবে । শুধু তাই নয় ১৯৯৭ সাল থেকে নথিভুক্ত হওয়া সমস্ত সার্টিফিকেট ধাপে ধাপে পুনর্যাচাই বা re-verification করা হবে যাতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা যায় এবং দুর্নীতি সম্পূর্ণভাবে দূর করা যায় । এই যাচাই প্রক্রিয়া কেবলমাত্র সরকারি আধিকারিকরাই পরিচালনা করবেন কোনও চুক্তিভিত্তিক কর্মী এই কাজে যুক্ত থাকবেন না বলেও স্পষ্ট করা হয়েছে।

রেজিস্ট্রেশন নিয়মেও বড় সংস্কার

শুধু কর্তৃপক্ষ বদলই নয় রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর একটি গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে Registration of Births and Deaths (Amendment) Rules 2026 জারি করেছে যেখানে আবেদন প্রক্রিয়াতেও একাধিক পরিবর্তন আনা হয়েছে । এখন থেকে আবেদনপত্রে নাম লিখতে হবে First Name Middle Name এবং Last Name ফরম্যাটে কোনও সংক্ষিপ্ত রূপ বা Abbreviation ব্যবহার করা যাবে না । ঠিকানার ক্ষেত্রেও জেলা ব্লক বা সাব-ডিভিশন গ্রাম বা ওয়ার্ড বাড়ির নম্বর এবং পিন কোড সহ বিস্তারিত তথ্য দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে । ঘটনার ৩০ দিনের বেশি সময় পরে আবেদন করা হলে নির্ধারিত কর্তৃপক্ষের অনুমতি ও সেল্ফ-ডিক্লারেশন জমা দিতে হবে এক বছরের বেশি বিলম্বের ক্ষেত্রে DM SDO বা অনুমোদিত এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমোদন আবশ্যক এবং দুবছরের বেশি দেরি হলে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতিও প্রয়োজন হবে । হাসপাতালের বাইরে হওয়া মৃত্যুর ক্ষেত্রে এখন থেকে MBBS ডাক্তার বা স্বীকৃত AYUSH প্র্যাকটিশনারের মেডিক্যাল সার্টিফিকেট বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

ফি বৃদ্ধি ও কড়া শাস্তির বিধান

সংশোধিত নিয়মে বার্থ ও ডেথ সার্টিফিকেট বিলম্বিত রেজিস্ট্রেশন এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পরিষেবার ফি-ও বাড়ানো হয়েছে । Registration of Births and Deaths Act লঙ্ঘন করলে শাস্তির পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে যা প্রশাসনের স্বচ্ছতার প্রতি অঙ্গীকারকে স্পষ্ট করে । সার্টিফিকেট এখন অনলাইন এবং অফলাইন দুই মাধ্যমেই পাওয়া যাবে ফলে নাগরিকদের জন্য প্রক্রিয়াটি আরও সহজ ও দ্রুত হবে বলে প্রশাসনের দাবি।

Rajdeep

Rajdeep

রাজদীপ একজন ডিজিটাল প্রকাশক। তিনি তথ্যনির্ভর, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য সংবাদ এবং বিশ্লেষণ পাঠকদের কাছে সহজ ভাষায় উপস্থাপন করতে আগ্রহী। তথ্য যাচাই, গভীর গবেষণা এবং নির্ভুল প্রতিবেদনের মাধ্যমে পাঠকদের সঠিক তথ্য পৌঁছে দেওয়াই তাঁর মূল লক্ষ্য।

সব লেখা দেখুন