Logo
হোম রাজ্য দেশ বিনোদন খেলা অটো লাইফস্টাইল রাশিফল প্রযুক্তি প্রকল্প

জগদ্ধাত্রী প্রতিমা বিসর্জন-এ বিতর্কে Kotwali থানার IC Amalendu Biswas-এর বিরুদ্ধে Disciplinary Proceedings, একসঙ্গে সাসপেন্ড আরও তিন পুলিশকর্মী

Suvendu Adhikari সরকারের বড় সিদ্ধান্ত। Krishnanagar-এ Jagaddhatri Immersion-এ Force প্রয়োগের অভিযোগে IC Amalendu Biswas-এর বিরুদ্ধে Disciplinary Proceedings, সঙ্গে আরও চার পুলিশকর্মীর Suspension।

২৫ July ২০২৬, ১১:১২ PM আপডেট: ০৫ September ২০২৬, ০২:৫৫ PM

গত বছরের একটি পুরনো অভিযোগে এবার এলো প্রশাসনিক পদক্ষেপ। নদিয়ার কৃষ্णনগরের কোতোয়ালি থানার Inspector in Charge (IC) অমলেন্দু বিশ্বাসের বিরুদ্ধে Disciplinary Proceedings শুরুর ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী সুভেন্দু অধিকারী। ২০২৫ সালের ৩১ অক্টোবর জগদ্ধাত্রী পুজোর বিসর্জনের সময় বলপ্রয়োগের অভিযোগ ঘিরে তৈরি হওয়া এই বিতর্ক এখন নতুন করে সামনে এসেছে, কারণ রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর পুরনো একাধিক পুলিশি ঘটনার ওপর ফের নজর দিচ্ছে বর্তমান প্রশাসন।

ঠিক কী ঘটেছিল কৃষ্ণনগরে

গত বছর জগদ্ধাত্রী পুজোর বিসর্জন প্রক্রিয়া চলাকালীন কৃষ্ণনগরের কদমতলা ঘাটে একটি ঘটনা ঘটে, যেখানে তৎকালীন বিরোধী দলনেতা সুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করেছিলেন, কোতোয়ালি থানার IC অমলেন্দু বিশ্বাস হিন্দুদের ওপর অন্যায় অত্যাচার চালিয়েছেন। তিনি এই ঘটনার একটি ভিডিও শেয়ার করে দাবি করেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সমস্ত ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও পুলিশ ব্যর্থ হয়েছে। যদিও তৎকালীন কৃষ্ণনগর জেলা পুলিশ এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছিল, চাকেরপাড়া বারোয়ারি ক্লাবের কয়েকজন সদস্য মদ্যপ অবস্থায় মহিলা পুলিশকর্মীদের হেনস্থা করার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মৃদু লাঠিচার্জ চালাতে হয়। পুলিশের বক্তব্য ছিল, ঘটনাকে সাম্প্রদায়িক রং দেওয়া অনুচিত।

 

নতুন সরকারের অধীনে ফের তদন্তের মুখে

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির ঐতিহাসিক জয়ের পর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া সুভেন্দু অধিকারী এবার একই ঘটনায় IC অমলেন্দু বিশ্বাসের বিরুদ্ধে Disciplinary Proceedings এর নির্দেশ দিয়েছেন। প্রশাসনিক সূত্রে জানা যাচ্ছে, এটি মূলত পুরনো সরকারের আমলে পুলিশি বলপ্রয়োগ সংক্রান্ত চারটি পৃথক ঘটনার পর্যালোচনার অংশ, যেখানে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই মূল লক্ষ্য বলে জানানো হয়েছে।

একই সঙ্গে আরও তিন পুলিশকর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

শুধু কৃষ্ণনগরের ঘটনাই নয়, একসঙ্গে আরও তিনটি পুরনো ঘটনায় ব্যবস্থা নিয়েছে বর্তমান সরকার। ২০২৩ সালে কালিয়াগঞ্জে হিংসার সময় রাজবংশী যুবক মৃত্যুঞ্জয় বর্মনের মৃত্যুর ঘটনায় সহকারী উপ পরিদর্শক (ASI) মোয়াজ্জেম হোসেনকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, হোসেনই সেই গুলি চালিয়েছিলেন যাতে বর্মনের মৃত্যু হয়, এবং তাঁর বিরুদ্ধে নতুন করে এফআইআর দায়েরেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রাক্তন আইপিএস অফিসার পঙ্কজ দত্তকে হেনস্থার অভিযোগে বার্টোলা থানার প্রাক্তন তদন্তকারী আধিকারিক সাধন দাস এবং প্রাক্তন আইসি সুবর্ণ দত্ত চৌধুরীকেও সাসপেন্ড করা হয়েছে, রাজনৈতিক নির্দেশে কাজ করার অভিযোগে। কাকদ্বীপে কালী প্রতিমা প্রিজন ভ্যানে বহনের বিতর্কিত ঘটনায় আইপিএস অফিসার কোটেশ্বর রাওকেও সাসপেন্ড করা হয়েছে।

জবাবদিহিতার বার্তা দিতে চাইছে সরকার

প্রশাসনিক মহলের বক্তব্য, এই সিদ্ধান্তগুলি ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে সরকারি আধিকারিকদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই নেওয়া হয়েছে। যদিও IC অমলেন্দু বিশ্বাসের ক্ষেত্রে এখনও চূড়ান্ত সাসপেনশনের বদলে Disciplinary Proceedings অর্থাৎ বিভাগীয় তদন্ত শুরু করা হয়েছে, যার ফলাফলের ওপরই নির্ভর করছে তাঁর ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ।

এখনও প্রতিক্রিয়া দেননি অভিযুক্তরা

উল্লেখযোগ্য বিষয়, এই মুহূর্ত পর্যন্ত IC অমলেন্দু বিশ্বাস বা অন্য অভিযুক্ত পুলিশকর্মীদের তরফে এই ঘোষণা নিয়ে কোনও সরকারি প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। রাজ্য পুলিশ প্রশাসনের তরফেও এখনও বিস্তারিত বিবৃতি প্রকাশিত হয়নি। প্রশ্ন উঠছে, পুরনো আমলের একাধিক পুলিশি সিদ্ধান্তের ওপর এই ধরনের পর্যালোচনা কি আগামী দিনেও অব্যাহত থাকবে, নাকি এই চারটি ঘটনাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে রাজ্য প্রশাসনের নজরদারি। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ এই সিদ্ধান্তকে প্রতীকী জবাবদিহিতার বার্তা হিসেবে দেখলেও, বিরোধী মহল থেকে এই নিয়ে প্রতিক্রিয়া আসার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

Rajdeep

Rajdeep

রাজদীপ একজন ডিজিটাল প্রকাশক। তিনি তথ্যনির্ভর, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য সংবাদ এবং বিশ্লেষণ পাঠকদের কাছে সহজ ভাষায় উপস্থাপন করতে আগ্রহী। তথ্য যাচাই, গভীর গবেষণা এবং নির্ভুল প্রতিবেদনের মাধ্যমে পাঠকদের সঠিক তথ্য পৌঁছে দেওয়াই তাঁর মূল লক্ষ্য।

সব লেখা দেখুন