Logo
হোম রাজ্য দেশ বিনোদন খেলা অটো লাইফস্টাইল রাশিফল প্রযুক্তি প্রকল্প

এই মাসেই নোটিফিকেশনের সম্ভাবনা, এখন থেকেই তুলে রাখুন এই নথিগুলো

Yubashakti Prakalpa নিয়ে ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে ছবি। এই মাসেই নোটিফিকেশনের সম্ভাবনা, অক্টোবর থেকে টাকা বিতরণ শুরুর ইঙ্গিত। প্রভিশনাল সার্টিফিকেট থেকে আধার-ব্যাঙ্ক লিঙ্ক এখন থেকেই কী কী প্রস্তুত রাখবেন জেনে নিন।

২১ July ২০২৬, ০৯:১৪ PM আপডেট: ০৬ September ২০২৬, ১২:০৭ PM

পশ্চিমবঙ্গের বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য সবচেয়ে প্রতীক্ষিত প্রকল্প Yubashakti নিয়ে ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে ছবিটা। অন্নপূর্ণা, বয়স্ক ভাতা কিংবা বিধবা ভাতার মতো প্রকল্পগুলির আপডেট যখন একে একে সামনে আসছে, তখন সবচেয়ে বেশি অপেক্ষায় রয়েছেন যাঁরা Yubashakti-র জন্য যোগ্য। বিভিন্ন সূত্র মারফত পাওয়া তথ্য বলছে, এই মাসের মধ্যেই প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক নোটিফিকেশন প্রকাশিত হতে পারে। তবে এখানে একটি বিষয় স্পষ্ট করে নেওয়া জরুরি এখনও পর্যন্ত সরকারি স্তরে চূড়ান্ত গেজেট বা নোটিফিকেশন প্রকাশিত হয়নি, যা কিছু তথ্য উঠে আসছে তা সবই বিভিন্ন সূত্র ও সম্ভাব্য আপডেটের ভিত্তিতে।

মাসিক ৩০০০ টাকা, বার্ষিক নয়

Yubashakti নিয়ে শুরুর দিকে একটি বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল আর্থিক সহায়তার অঙ্ক নিয়ে। প্রাথমিকভাবে বার্ষিক এক লক্ষ টাকার কথা উঠে এলেও, পরবর্তীতে মুখ্যমন্ত্রী নিজেই স্পষ্ট করে দেন যে এটি আসলে মাসিক তিন হাজার টাকা বার্ষিক হিসেবে যা প্রায় ৩৬ হাজার টাকার সমান। যোগ্যতার প্রাথমিক শর্ত হিসেবে বলা হচ্ছে, আবেদনকারীর বয়স হতে হবে ২১ থেকে ৪৫ বছরের মধ্যে, এবং তিনি কোনও ধরনের চাকরি কন্ট্রাকচুয়াল, প্রাইভেট বা পার্মানেন্ট কোনওটির সঙ্গেই যুক্ত থাকতে পারবেন না। সম্পূর্ণ বেকার যুবক-যুবতীরাই এই প্রকল্পের জন্য আবেদনযোগ্য বলে জানা যাচ্ছে।

কবে থেকে চালু, কবে থেকে টাকা

সূত্রের খবর, জুলাই মাসের মধ্যেই Yubashakti-র নোটিফিকেশন আসার সম্ভাবনা রয়েছে। নোটিফিকেশন প্রকাশিত হলেও তার পরই সরাসরি টাকা ঢুকে যাবে, এমনটা কিন্তু নয়। জানা যাচ্ছে, নোটিফিকেশনের পর ফর্ম ফিলাপ ও যাচাই প্রক্রিয়ায় দুই থেকে তিন মাস সময় লাগতে পারে, এবং অক্টোবর মাস থেকে প্রকৃত অর্থে টাকা বিতরণ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ২০ বা ২২ তারিখের মতো নির্দিষ্ট তারিখগুলি নিয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট মহল এই ধরনের তারিখ প্রায়ই এআই-নির্ভর কনটেন্ট থেকে ছড়ায়, সরকারি ওয়েবসাইটে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত এগুলিকে চূড়ান্ত ধরে নেওয়া ঠিক নয়।

যুবশ্রী থেকে Yubashakti-তে রূপান্তর

যাঁরা ইতিমধ্যেই যুবশ্রী প্রকল্পের উপভোক্তা, তাঁদের নতুন করে আবেদন করতে হবে না বলেই জানা যাচ্ছে তাঁরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে Yubashakti-তে অন্তর্ভুক্ত হয়ে যেতে পারেন। তবে এক্ষেত্রেও প্রাক্তন উপভোক্তাদের একাংশ যোগ্যতার শর্ত পূরণ না করায় বাদ পড়তে পারেন বলে ইঙ্গিত মিলছে। উল্লেখযোগ্য বিষয়, যাঁরা যুবশ্রী থেকে Yubashakti-তে স্থানান্তরিত হচ্ছেন, তাঁদেরও অতিরিক্ত কিছু নথি জমা দিতে হতে পারে, কারণ Yubashakti-র জন্য চাওয়া নথির তালিকা যুবশ্রীর তুলনায় কিছুটা বিস্তৃত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কী কী নথি প্রস্তুত রাখা উচিত

নতুন আবেদনকারীদের জন্য যে নথিগুলি প্রয়োজন হতে পারে বলে আভাস মিলছে, তার মধ্যে রয়েছে জন্ম সার্টিফিকেট বা মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড, সাম্প্রতিক পাসপোর্ট সাইজ ছবি, আধার কার্ড এবং ভোটার কার্ড। ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের বিশদ তথ্য আলাদা করে জমা দিতে না হলেও, যেহেতু অর্থ প্রদান হবে ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফারের মাধ্যমে, তাই আধারের সঙ্গে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট লিঙ্ক আছে কিনা, তা এনপিসিআই-এর ওয়েবসাইটে গিয়ে যাচাই করে নেওয়া জরুরি। লিঙ্ক না থাকলে দ্রুত তা সম্পন্ন করে রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

শিক্ষাগত নথিই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ

সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে শিক্ষাগত যোগ্যতার নথি নিয়ে। যদিও মাধ্যমিক বা উচ্চমাধ্যমিক স্তরের জন্য আলাদা অঙ্কের সহায়তা দেওয়া হবে কিনা তা এখনও নিশ্চিত নয়, তবে স্নাতকদের জন্য তিন হাজার এবং অস্নাতকদের জন্য দুই হাজার টাকার স্ল্যাব বহাল থাকার সম্ভাবনাই বেশি বলে মনে করা হচ্ছে। আবেদনকারীর সর্বোচ্চ যোগ্যতা অনুযায়ী মার্কশিট ও সার্টিফিকেট জমা দিতে হবে মাধ্যমিক পাস হলে মাধ্যমিকের, উচ্চমাধ্যমিক হলে উচ্চমাধ্যমিকের, আর স্নাতক হলে গ্র্যাজুয়েশনের মার্কশিট ও সার্টিফিকেট অথবা প্রভিশনাল সার্টিফিকেট জমা দিতে হবে। এই কারণেই সাম্প্রতিক সময়ে গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়-সহ একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভিশনাল ডিগ্রি সার্টিফিকেট সংগ্রহ করতে দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে বলে জানা গেছে। যাঁরা বহু বছর আগে পাস করে মার্কশিট তুলেছেন কিন্তু সার্টিফিকেট নেননি, তাঁদের এখনই এই সার্টিফিকেট তুলে রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, কারণ প্রয়োজন না হলেও ভবিষ্যতে এই নথি অন্য কাজে লাগতে পারে।

একসঙ্গে দুটি প্রকল্পের সুবিধা নয়

একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়মের কথাও উঠে আসছে সূত্র মারফত রাজ্যের প্রায় সব প্রকল্পের ক্ষেত্রেই একটি সামাজিক নিবন্ধন ব্যবস্থা (সোশ্যাল রেজিস্ট্রি) অনুসরণ করা হচ্ছে, যার ফলে কেউ একাধিক প্রকল্পের সুবিধা একসঙ্গে নিতে পারবেন না। অর্থাৎ কেউ যদি ইতিমধ্যেই অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পাচ্ছেন, অথচ পরে Yubashakti-র জন্য আবেদন করেন, তাহলে সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাঁর আগের প্রকল্পের সুবিধা বাতিল করে দেবে। তাই যাঁরা অন্য কোনও প্রকল্পে ইতিমধ্যে নথিভুক্ত নন, তাঁরাই Yubashakti-র জন্য সম্পূর্ণরূপে যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।

আপাতত করণীয় কী

সব মিলিয়ে বলা যায়, Yubashakti নিয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনও বাকি থাকলেও, প্রস্তুতি শুরু করে দেওয়াই বিচক্ষণতার পরিচয়। জন্ম সার্টিফিকেট, শিক্ষাগত মার্কশিট-সার্টিফিকেট, আধার-ভোটার কার্ড এবং আধার-ব্যাঙ্ক লিঙ্ক এই বিষয়গুলি এখনই গুছিয়ে রাখলে নোটিফিকেশন প্রকাশিত হওয়ার পর হুড়োহুড়ি করতে হবে না। তবে চূড়ান্ত ও নির্ভরযোগ্য তথ্যের জন্য রাজ্য সরকারের সরকারি ওয়েবসাইট বা আনুষ্ঠানিক গেজেট প্রকাশের অপেক্ষা করাই সবচেয়ে নিরাপদ পথ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

Rajdeep

Rajdeep

রাজদীপ একজন ডিজিটাল প্রকাশক। তিনি তথ্যনির্ভর, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য সংবাদ এবং বিশ্লেষণ পাঠকদের কাছে সহজ ভাষায় উপস্থাপন করতে আগ্রহী। তথ্য যাচাই, গভীর গবেষণা এবং নির্ভুল প্রতিবেদনের মাধ্যমে পাঠকদের সঠিক তথ্য পৌঁছে দেওয়াই তাঁর মূল লক্ষ্য।

সব লেখা দেখুন