প্রথম কিস্তি বিতরণের চিত্র
গত ১ জুলাই নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়াম থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অন্নপূর্ণা যোজনার আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন, আর সেই দিনই দুপুর ১টা থেকে প্রায় ১ কোটি ৯ লক্ষ ৯২ হাজার ৩৭৮ জন মহিলার অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো শুরু হয় । সরকারি সূত্রের হিসেবে, প্রথম দফায় মোট ১ কোটি ৯ লক্ষ ৫২ হাজার ৩৭৮ জন উপভোক্তা এই টাকা পেয়েছেন, এবং যাঁরা প্রথম দিন পাননি তাঁদের অ্যাকাউন্টেও ওই রাতের মধ্যেই টাকা পাঠানোর আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী । প্রায় ১ কোটি ৫১ লক্ষ আবেদনের মধ্যে কড়া স্ক্রুটিনির পর ১ কোটি ২০ লক্ষের বেশি নাম চূড়ান্ত তালিকায় নথিভুক্ত করা হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে ।
বাদ পড়া নাম নিয়ে বিতর্ক
প্রায় ২৬ থেকে ৩০ লক্ষ মহিলার নাম তালিকা থেকে বাদ পড়ায় প্রশ্ন উঠেছিল, যার জবাবে মুখ্যমন্ত্রী নিজেই কারণ স্পষ্ট করেছেন । মৃত, স্থানান্তরিত, ডুপ্লিকেট এন্ট্রি এবং SIR ২০২৬ তালিকা থেকে বাদ পড়া ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে । সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, যাঁরা SIR ট্রাইবুনালে আবেদন করেছেন বা নাগরিকত্ব আইনের অধীনে আবেদন করেছেন, তাঁরা মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পাবেন ।
জুলাই মাসের সংশোধন প্রক্রিয়া
জুলাই মাসের কিস্তি নিয়ে ৭ জুলাই থেকে আবেদন সংশোধনের একটি নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যা টাকা পাঠানোর শেষ দিন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে । জানা যাচ্ছে, ১৫ জুলাই থেকে বিডিও বা মিউনিসিপ্যালিটি অফিসে গিয়ে ফর্ম সংশোধনের কাজ করা যাচ্ছে, যাতে যাঁদের আবেদনে ত্রুটি থেকে গেছে তাঁরাও পরবর্তী কিস্তিতে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পেতে পারেন । প্রতি সাত দিন অন্তর উপভোক্তার তালিকা আপডেট করা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে ।
স্ট্যাটাস চেক করার পদ্ধতি
যাঁরা এখনও টাকা পাননি, তাঁরা রাজ্য সামাজিক সুরক্ষা পোর্টাল বা socialregistry.wb.gov.in -এ গিয়ে নিজের আবেদনের অবস্থা যাচাই করতে পারেন । আধার-লিঙ্কড মোবাইল নম্বরে আসা ওটিপি দিয়ে লগইন করে 'Track Application' অপশনে ক্লিক করলে ফর্মের বর্তমান স্ট্যাটাস Approved, Verified বা প্রসেসিং দেখা যায় । অন্নপূর্ণা যোজনার আবেদনের তথ্য যদি অনলাইনে আপলোড না হয়ে থাকে এবং নতুন ফর্ম খুলতে থাকে, তাহলে সেই মাসে টাকা পাওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে বলে সতর্ক করা হয়েছে ।
প্রকল্পের সার্বিক রূপরেখা
লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের জায়গায় আসা অন্নপূর্ণা যোজনা ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সী মহিলারা যোগ্য, যাঁরা সরকারি বা আধা-সরকারি চাকরি বা পেনশনভোগী নন এবং আয়কর দেন না । মজার বিষয় হলো, ভাতা দ্বিগুণ হলেও রাজ্যের সামগ্রিক ব্যয় বরাদ্দ কমেছে বলে একটি অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, কারণ কঠোর স্ক্রুটিনির ফলে উপভোক্তার সংখ্যা কমানো হয়েছে ।





