নীট (NEET) পরীক্ষার অনিয়মের প্রতিবাদে Delhi-র Jantar Mantar-এ চলমান বিক্ষোভ এখন বিতর্কের ঝড় তুলেছে। শিক্ষার্থীদের বৈধ দাবি সংস্কারের আড়ালে এই আন্দোলন যেন ঘৃণা ও বিভেদের রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মঞ্চ থেকে হিন্দু ধর্ম ও দেবদেবীদের অবমাননা, প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi ও তাঁর মাতা Hiraben Modi-কে কটাক্ষএমন ঘটনা ঘটেছে যা গোটা দেশকে স্তম্ভিত করেছে। বিভিন্ন মহল দাবি করছে, এই 'ভুয়ো আন্দোলন'-এ অংশগ্রহণকারী অনেকেই পরীক্ষার বৈধ প্রতিবাদী নন; বরং তাদের লক্ষ্য ছিল নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল ও তার নেতৃত্বকে আক্রমণ করা।
Hindu Janajagruti Samiti (HJS) এবং Supreme Court-এর একাধিক আইনজীবীর একটি যৌথ প্রতিনিধি দল সম্প্রতি Parliament Street থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, কৌতুক অভিনেতা Kunal Kamra মঞ্চ থেকে অত্যন্ত আপত্তিকর মন্তব্য করে বলেছেন"বছরের পর বছর ধরে এই সরকার সীতার পতি (Shri Ram)-এর নাম নিচ্ছে, কিন্তু করছে নীতার পতি (Mukesh Ambani)-এর কাজ।" প্রতিনিধি দলের মতে, এই মন্তব্য ১০০ কোটির বেশি হিন্দুর ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছে এবং এটি হিন্দু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে সরাসরি ঘৃণামূলক বক্তব্য।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, একই মঞ্চে এক মহিলা পাকিস্তানি কবি Faiz Ahmed Faiz-এর একটি উস্কানিমূলক গান পরিবেশন করেন, যার লাইন ছিল"সব মূর্তি সরিয়ে দেওয়া হবে... শুধু আল্লাহর নাম থাকবে।" প্রতিনিধি দল এই অংশটিকে মূর্তিপূজক হিন্দু ধর্মের ওপর সরাসরি আক্রমণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। তারা দাবি করেছেন, এই ধরনের বক্তব্য ভারতের ধর্মীয় সম্প্রীতিকে ধ্বংস করার চেষ্টা এবং এটি কোনওভাবেই শিক্ষার্থীদের বৈধ আন্দোলনের অংশ হতে পারে না।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, আন্দোলনের মঞ্চ ও মিছিলে সরাসরি প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi এবং তাঁর মাতা Hiraben Modi-কে লক্ষ্য করে কটাক্ষ ও অশালীন ভাষায় মন্তব্য করা হয়েছে। যদিও মূলধারার সংবাদমাধ্যমে শিক্ষার্থীদের দাবি ও পুলিশি লাঠিচার্জের খবর বেশি গুরুত্ব পেয়েছে, তবুও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে এই আপত্তিকর বক্তব্যের প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। আন্দোলনকারীদের একটি অংশ প্রধানমন্ত্রীর পরিবারকে লক্ষ্য করে এমন ভাষা ব্যবহার করেছে যা ভারতীয় রাজনৈতিক ইতিহাসে বিরল।
অভিযোগ আরও গুরুতরএই আন্দোলনে নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, Delhi দাঙ্গার আসামি Umar Khalid-এর পিতা Syed Qasim Rasool Ilyas মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন, যিনি নিষিদ্ধ সংগঠন Students Islamic Movement of India (SIMI)-এর সঙ্গে যুক্ত। এই উপস্থিতি আন্দোলনের আসল উদ্দেশ্য সম্পর্কে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে এবং প্রমাণ করে যে দেশবিরোধী শক্তি এই আন্দোলনকে হাইজ্যাক করার চেষ্টা করছে।
অভিনেতা Prakash Raj মঞ্চ থেকে যুবকদের ব্যবস্থার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করতে উস্কানি দিয়ে বলেন"আমাদের সন্ত্রাসী বা পাকিস্তানি বলা হলেও আমরা চিন্তা করি না।" এই মন্তব্য জাতীয়তাবাদী অনুভূতিতে আঘাত করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের বক্তব্য আন্দোলনের মূল দাবিনীট সংস্কারকে সম্পূর্ণ ছাপিয়ে গেছে এবং প্রমাণ করে যে এই আন্দোলন কোনো বৈধ ছাত্র আন্দোলন নয়, বরং একটি সংগঠিত রাজনৈতিক এজেন্ডা।
যৌথ প্রতিনিধি দল তাৎক্ষণিক এফআইআর এবং UAPA (Unlawful Activities Prevention Act) আইনে তদন্তের দাবি জানিয়েছে। Bharatiya Nyaya Sanhita (BNS), ২০২৩-এর ধারা ২৯৯ (ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত), ধারা ১৯৬ (গোষ্ঠীগত বিদ্বেষ), ধারা ১৫২ (ভারতের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা বিপন্নকরণ) এবং ধারা ৩৫৩ (উস্কানিমূলক বিবৃতি)-তে মামলা করার দাবি জানানো হয়েছে। আইনজীবীরা বলেছেন, এই ঘটনাগুলি কোনো সাধারণ বিক্ষোভ নয়, বরং এটি সংগঠিত ঘৃণাপ্রসূত অপরাধ।
BJP নেতা ও বিধান পরিষদের বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ N Ravikumar অভিযোগ করেছেন যে এই আন্দোলন বামপন্থী ও 'অ্যান্টি-ন্যাশনাল' শক্তির দ্বারা হাইজ্যাক করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, আন্দোলনে Students Federation of India (SFI), All India Students Association (AISA)-এর মতো বাম সংগঠনের কর্মীরা অনুপ্রবেশ করেছিল এবং এটিকে রাজনৈতিক প্রচারে রূপান্তরিত করা হয়েছিল। তিনি প্রশাসনের কাছে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
নীট আন্দোলনের প্রকৃতি বিশ্লেষণে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছেমূল দাবি ছিল নীট প্রশ্নফাঁস রোধে কঠোর আইন ও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ, কিন্তু বর্তমান চিত্রে দেখা যাচ্ছে হিন্দু-বিরোধী স্লোগান, ব্যক্তিগত কটাক্ষ ও দেশবিরোধী বক্তব্য। মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন Sonam Wangchuk (অনশনকারী), Kunal Kamra, Prakash Raj ও Syed Qasim Rasool Ilyas-এর মতো ব্যক্তিরা। উস্কানিমূলক স্লোগানের মধ্যে ছিল "সব মূর্তি সরিয়ে দেওয়া হবে" এবং "সীতার পতি নয়নীতার পতি"–এর মতো বক্তব্য। Delhi পুলিশের লাঠিচার্জে বেশ কয়েকজন আটক হয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই আন্দোলন সত্যিকার অর্থে নীটের সংস্কার চায়, নাকি দেশবিরোধী ও ঘৃণাপ্রসূত রাজনীতির প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠেছে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। আন্দোলনের মূল নেতৃত্ব যদি সত্যিই শিক্ষার্থীদের পক্ষে থাকে, তাহলে তাদের এই উস্কানিমূলক উপাদানগুলির বিরুদ্ধে সাফ অবস্থান নেওয়া উচিত ছিল। নীরবতা প্রমাণ করে যে তারা হয় এই ঘৃণামূলক বক্তব্যের সঙ্গে একমত, নয়তো তারা এই শক্তিগুলির দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে।
Stone pelting on cops was reported earlier today in Central Delhi during the CJP protest to demand resignation of Education Minister Dharmendra Pradhan over NEET Controversy. pic.twitter.com/WeZ4I68kos
— Aditya Raj Kaul (@AdityaRajKaul) July 20, 2026
Delhi Police should set an example by taking strict action against such rioters who are abusing PM Modi.
— Megh Updates 🚨™ (@MeghUpdates) July 22, 2026
A CJP protester said, "I will shoot Modi and pee in his mouth."
The time has come to act. 🙏 @DelhiPolicepic.twitter.com/uimySyo8Fk
🚨 SHOCKER! A CJP protester is seen abusing the Indian Armed Forces.
— Megh Updates 🚨™ (@MeghUpdates) July 22, 2026
Earlier, videos showed protesters abusing PM Modi, journalists being assaulted, and Nihang Sikhs carrying swords.
Time to identify everyone involved and take STRICT ACTION. CC: @DelhiPolicepic.twitter.com/0Jv1lamlkR
This woman at Jantar Mantar sneering “Ram Mandir whatever the f*ck” and abusing Prabhu Ram has zero shame. @DelhiPolice — this is clear provocation and hate speech. Take immediate cognizance and actpic.twitter.com/uv3P505z8k
— Megh Updates 🚨™ (@MeghUpdates) July 22, 2026
Delhi Police
— The Jaipur Dialogues (@JaipurDialogues) July 22, 2026
Please identify and act! pic.twitter.com/8CE3dHGaXW
Twitter ও Facebook-এ #FakeNEETProtest, #AntiNationalAgenda, #InsultToHinduism ট্রেন্ডিংয়ে রয়েছে। এক Twitter ব্যবহারকারী লেখেন"শিক্ষার্থীদের কান্নাকে পুঁজি করে কিছু মানুষ তাদের ঘৃণার রাজনীতি চালাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর মাতাকে গালি দেওয়া কোন সভ্য আন্দোলনের অংশ হতে পারে?" আরেকজন লেখেন"যাঁরা সীতার পতি-র নামে অবমাননা করেন, তাঁরা কি আদৌ ভারতীয় সংস্কৃতি বোঝেন?" সামাজিক মাধ্যমে সাধারণ মানুষ এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।
Delhi পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও কঠোর নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে উস্কানিমূলক বক্তব্য দেওয়াদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পুলিশ কমিশনার জানিয়েছেন, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যেন আইন হাতে তুলে নিয়ে ঘৃণামূলক বক্তব্য ছড়াতে না পারে, সেদিকে কড়া নজর রাখা হচ্ছে।
প্রশাসনের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক বলেন"প্রত্যেক নাগরিকের মতপ্রকাশের অধিকার রয়েছে, কিন্তু তা দেশের প্রধানমন্ত্রী, তাঁর পরিবার ও ধর্মীয় অনুভূতিকে অপমান করার লাইসেন্স নয়। আমরা ঘৃণার রাজনীতিকে কোনওভাবেই উৎসাহিত করব না। যারা আইন ভঙ্গ করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।" তিনি আরও বলেন, আন্দোলনের নামে কেউ যেন দেশবিরোধী কর্মকাণ্ড চালাতে না পারে, সেদিকে প্রশাসন সজাগ রয়েছে।
আন্দোলনকারী কিছু প্রকৃত শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, তারা শুধুমাত্র নীট পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও প্রশ্নফাঁস রোধের দাবি নিয়ে এসেছিলেন। কিন্তু তাঁদের অভিযোগ, কিছু অজ্ঞাত গোষ্ঠী এই মঞ্চ দখল করে নিজেদের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় এজেন্ডা চালাচ্ছে। একজন শিক্ষার্থী বলেন"আমরা সংস্কার চাই, ঘৃণা নয়। কিন্তু আমাদের কণ্ঠ এখন এই উস্কানিদাতাদের ডুবিয়ে দিচ্ছে।"
শেষপর্যন্ত, এই আন্দোলন সত্যিকার অর্থে নীটের সংস্কার চায়, নাকি নিজেদের রাজনৈতিক পয়েন্ট স্কোর করতে চায়, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। হিন্দু ধর্মের অবমাননা, প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর মাতাকে কটাক্ষ এবং নিষিদ্ধ সংগঠনের লোকজনের উপস্থিতিএই ঘটনাগুলি প্রমাণ করে যে এটি কোনো সাধারণ শিক্ষার্থী আন্দোলন নয়। প্রশাসন ও আইন ব্যবস্থার কাছে এখন চ্যালেঞ্জপ্রকৃত শিক্ষার্থীদের দাবি থেকে ঘৃণার রাজনীতিকে আলাদা করা এবং দেশবিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া।



