শনিবার কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান তাঁর পদত্যাগপত্র প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে পাঠানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই স্পষ্ট হয়ে গেল, দিল্লির জন্তর মন্তরে চলা আন্দোলন এখানেই থেমে যাচ্ছে না। নিট পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস ও তার জেরে একের পর এক ছাত্র আত্মহত্যার অভিযোগে গত ৬ জুন থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিল Cockroach Janta Party, সংক্ষেপে CJP। মন্ত্রীর Resignation-কে আন্দোলনের একটি বড় জয় হিসেবে স্বাগত জানালেও, সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তিন দফা দাবির মধ্যে এখনও দুটি অপূর্ণ রয়ে গেছে।
Resignation-এর নেপথ্যে যা বললেন প্রধান
পদত্যাগপত্রে ধর্মেন্দ্র প্রধান নিট পরীক্ষা বাতিলের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে লেখেন, কোনও মেধাবী পড়ুয়ার ভবিষ্যৎ যেন পরীক্ষা মাফিয়াদের হাতে নষ্ট না হয়, সেটাই ছিল তাঁর দৃঢ় সংকল্প। তিনি আরও লেখেন, জন্তর মন্তর ও সারা দেশ জুড়ে তৈরি হওয়া পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে, জাতীয় ঐক্য অক্ষুণ্ণ রাখতে এবং কোনও ছাত্রের ভবিষ্যৎ যেন আইনি জটিলতায় না জড়ায়, সেই বিবেচনা থেকেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী এখনও এই পদত্যাগ আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করেননি বলে জানা যাচ্ছে।
Dipke-র প্রতিক্রিয়া: আমরা এভাবে যাচ্ছি না
খবর পাওয়ার পরপরই জন্তর মন্তরে জমায়েত সমর্থকদের উদ্দেশে ভাষণ দেন দীপকে। তিনি বলেন, ভয়ের কোনও কারণ নেই, এটাই গণতন্ত্র। মন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন ঠিকই, কিন্তু আরও দুটি দাবি বাকি রয়েছে, এবং তাঁরা এভাবে সরে যাচ্ছেন না। CJP-র বক্তব্য অনুযায়ী, শুক্রবারের আলোচনায় কেন্দ্র বাকি দুই দাবি বিবেচনা করার আশ্বাস দিলেও, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ প্রসঙ্গে চুপ ছিল সরকার যা শনিবার পূরণ হয়ে যায়।
বাকি দুই দাবি ঠিক কী কী
দীপকের কথায়, নিট প্রশ্নফাঁসের জেরে যে সমস্ত পড়ুয়া আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছেন, তাঁদের পরিবারকে এক কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। দ্বিতীয় দাবি, গত ২০ জুলাই সংসদ অভিমুখী মিছিলের সময় পুলিশি ব্যবস্থার বিরুদ্ধে যে ক্র্যাকডাউনের অভিযোগ উঠেছিল, তার জন্য দায়ী পুলিশ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। এই দুটি দাবি সম্পূর্ণরূপে মেনে নেওয়া না হওয়া পর্যন্ত জন্তর মন্তরের ধর্না প্রত্যাহার হবে না বলেই স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন তিনি।
আন্দোলনের সূচনা থেকে আজ পর্যন্ত
গত ৬ জুন একটি স্যাটায়ারধর্মী অনলাইন সংগঠন হিসেবে CJP প্রতিষ্ঠা করে জন্তর মন্তরে প্রতিবাদ শুরু করেন দীপকে। প্রথমদিকে ছোট পরিসরে শুরু হলেও, ক্রমেই তা রূপ নেয় ব্যাপক ছাত্র আন্দোলনে, যেখানে যুক্ত হন সোনম ওয়াংচুকের মতো সমাজকর্মীও। ২০ জুলাই সংসদের বাদল অধিবেশনের প্রথম দিনে ডাকা Sansad Chalo মিছিলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, লাঠিচার্জ ও ব্যাপক ধরপাকড়ের ঘটনা আন্দোলনকে জাতীয় স্তরে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে আসে।
সরকারের অবস্থান ও ভবিষ্যৎ পথ
সরকারি সূত্রে জানা যাচ্ছে, পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ যাতে আইনি জটিলতায় আটকে না থাকে এবং পরিস্থিতি যাতে আরও উত্তপ্ত না হয়, সেই বিবেচনা থেকেই মন্ত্রীর পদত্যাগের সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে CJP-র বাকি দুই দাবি নিয়ে সরকারের তরফে এখনও কোনও চূড়ান্ত ঘোষণা আসেনি। ফলে ক্ষতিপূরণ ও পুলিশি জবাবদিহি নিয়ে কেন্দ্র কী অবস্থান নেয়, তার ওপরই নির্ভর করছে জন্তর মন্তরের ধর্না আরও দীর্ঘায়িত হবে, নাকি শীঘ্রই তার সমাপ্তি ঘটবে।





