Logo
হোম রাজ্য দেশ বিনোদন খেলা অটো লাইফস্টাইল রাশিফল প্রযুক্তি প্রকল্প

১১৮ পুলিশকর্মী আহত, ১০০-র বেশি সিজেপি বিক্ষোভকারী আটক, ভেঙে ফেলা হল যন্তর মন্তরের বিক্ষোভস্থল

CJP-র Sansad Chalo মিছিলের পর দিল্লিতে উত্তেজনা অব্যাহত। ১১৮ পুলিশকর্মী আহত, শতাধিক আটক, জন্তর মন্তরের প্রতিবাদস্থল ভাঙল প্রশাসন। রাহুল গান্ধীর প্রতিবাদ আহ্বান সহ সম্পূর্ণ আপডেট।

২২ July ২০২৬, ১২:০১ PM আপডেট: ২১ August ২০২৬, ১১:৫৮ PM

CJP-র Sansad Chalo মিছিল ঘিরে সোমবারের সংঘর্ষের পর মঙ্গলবারও উত্তেজনা কমেনি দিল্লিতে। দিল্লি পুলিশের সরকারি বিবৃতি অনুযায়ী, সোমবারের সংঘর্ষে ১১৮ জন পুলিশকর্মী আহত হয়েছেন, যার মধ্যে রয়েছেন একাধিক সিনিয়র অফিসারও। পুলিশের দাবি, আন্দোলনকারীদের একাংশ হিংসাত্মক আচরণ করেছে এবং পুলিশের গাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই ঘটনার জেরে প্রায় ৭০ থেকে ১০০-রও বেশি আন্দোলনকারীকে আটক বা গ্রেফতার করা হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যাচ্ছে।

দুই পক্ষের পরস্পরবিরোধী দাবি

ঘটনার বিবরণ নিয়ে পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের বক্তব্যে স্পষ্ট ফারাক রয়েছে। দিল্লি পুলিশের বক্তব্য, সোমবারের ঘটনাকে তারা "হিংসাত্মক বিক্ষোভ" হিসেবে বর্ণনা করেছে, যেখানে তাদের কর্মীরা আক্রান্ত হয়েছেন। অন্যদিকে আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, পুলিশ তাদের ওপর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করেছে লাঠিচার্জ ও টিয়ার গ্যাসের ব্যবহার এই অভিযোগের প্রধান ভিত্তি। রাম মনোহর লোহিয়া হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত পুলিশ ও আন্দোলনকারী উভয় পক্ষের মিলিয়ে প্রায় পঁয়ষট্টিটি মেডিকো-লিগ্যাল কেস নথিভুক্ত হয়েছে, এবং প্রায় দশজন অনশনকারীকে চিকিৎসা পরীক্ষার পর স্থিতিশীল বলে জানানো হয়েছে।

 

জন্তর মন্তরের প্রতিবাদস্থল ভেঙে দেওয়া হলো

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, গত ২০ জুন থেকে জন্তর মন্তরে চলা প্রায় এক মাসের প্রতিবাদস্থলটি সংঘর্ষের পর সম্পূর্ণ ভেঙে ফেলা হয়েছে বলে জানা গেছে। পুলিশের দাবি, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ছাত্র নন এমন লোকজনও রয়েছেন, এবং তাঁদের পরিচয় যাচাই করার প্রক্রিয়া চলছে। পুলিশ আরও জানিয়েছে, সংঘর্ষের নেপথ্যে কী উদ্দেশ্য ছিল তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে, এমনকি "বহিরাগত যোগসূত্র"-ও তদন্তের আওতায় আনা হচ্ছে। পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর ও সরকারি সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগে একাধিক এফআইআর দায়েরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।

সোনম ওয়াংচুক হাসপাতাল বদল

জলবায়ু ও শিক্ষা আন্দোলনকারী সোনম ওয়াংচুক, যিনি গত ২৮ জুন থেকে এই আন্দোলনে অনশনে যোগ দিয়েছিলেন, তাঁকে দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশে সফদরজং হাসপাতাল থেকে মেদান্তা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে বলে মঙ্গলবার জানা গেছে।

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া জোরালো

ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় বিরোধী রাজনৈতিক মহল সরব হয়েছে। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী মঙ্গলবার সাধারণ মানুষকে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের বাইরে প্রতিবাদে শামিল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এই আহ্বানের কিছুক্ষণ পরেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বলে জানা গেছে। প্রসঙ্গত, সোমবার বিকেলেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডা সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাংকার সঙ্গে আলোচনায় বসেছিলেন, যদিও সেই বৈঠকের পরও রাতভর সংঘর্ষ থামেনি।

নিরাপত্তা আরও কড়া দিল্লিজুড়ে

সংঘর্ষের পর মঙ্গলবার থেকে রাজধানীর একাধিক এলাকায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। নয়াদিল্লি, সেন্ট্রাল, নর্থ, সাউথ, সাউথ-ওয়েস্ট ও সাউথ-ইস্ট জেলার পাশাপাশি স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতেও পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর ব্যাপক মোতায়েন দেখা গেছে। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলিতে বসানো হয়েছে বহুস্তরীয় ব্যারিকেড, গাড়ি তল্লাশি বাড়ানো হয়েছে এবং টহলদারিও জোরদার করা হয়েছে। কৃষক সংগঠনগুলির সম্ভাব্য প্রতিবাদের আশঙ্কাতেও এই বাড়তি সতর্কতা বলে সূত্রের খবর।

মূল বিতর্ক এখনও অমীমাংসিত

CJP-র মূল দাবি জাতীয় স্তরের পরীক্ষায়, বিশেষত নিটে, অনিয়মের অভিযোগ এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এখনও অমীমাংসিতই রয়ে গেছে। পুলিশ যেখানে আটকদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে, সেখানে বিরোধী দল ও আন্দোলনকারীরা সরকারের বিরুদ্ধে দমনপীড়নের অভিযোগ তুলে আন্দোলন অব্যাহত রাখার ইঙ্গিত দিয়েছেন। পরিস্থিতি আগামী দিনে কোন দিকে গড়ায়, রাজধানীর নজর এখন সেদিকেই।

Rajdeep

Rajdeep

রাজদীপ একজন ডিজিটাল প্রকাশক। তিনি তথ্যনির্ভর, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য সংবাদ এবং বিশ্লেষণ পাঠকদের কাছে সহজ ভাষায় উপস্থাপন করতে আগ্রহী। তথ্য যাচাই, গভীর গবেষণা এবং নির্ভুল প্রতিবেদনের মাধ্যমে পাঠকদের সঠিক তথ্য পৌঁছে দেওয়াই তাঁর মূল লক্ষ্য।

সব লেখা দেখুন