সোমবার সংসদের বাদল অধিবেশনের প্রথম দিনেই রাজধানী দিল্লি কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হলো। জাতীয় স্তরের বিভিন্ন পরীক্ষায়, বিশেষত নিটে, প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং তার জেরে একের পর এক ছাত্র আত্মহত্যার অভিযোগে সংসদ পর্যন্ত মিছিলের ডাক দিয়েছিল Cockroach Janta Party, সংক্ষেপে CJP। জন্তর মন্তরে হাজার হাজার আন্দোলনকারী জড়ো হন, আর সেই বিশাল জমায়েতকে সামলাতে দিল্লি পুলিশ একাধিকবার ব্যারিকেড, প্রোহিবিটরি অর্ডার, লাঠিচার্জ এমনকি টিয়ার গ্যাসও প্রয়োগ করে।
Abhijeet Dipke-র অনশন প্রত্যাহার, নেপথ্যে আবেগঘন আবেদন
ঘটনার শুরুটা হয়েছিল কিছুটা আবেগঘন মুহূর্ত দিয়ে। CJP প্রতিষ্ঠাতা Abhijeet Dipke বেশ কয়েকদিন ধরে অনশনে বসেছিলেন জন্তর মন্তরে। সোমবার সকালে, মিছিল শুরুর ঠিক আগে তিনি সেই অনশন প্রত্যাহার করে নেন— নিট পরীক্ষার্থী রিয়া থাপার বাবার অনুরোধে, যিনি পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে মেয়েকে হারিয়েছেন আত্মহত্যায়। Dipke নিজেই মিছিলের নেতৃত্ব দেবেন বলে ঠিক হওয়ায় অনশন প্রত্যাহার জরুরি হয়ে পড়েছিল।
Nadda-র সঙ্গে বৈঠকে CJP প্রতিনিধিরা
সকাল থেকেই CJP-র সঙ্গে আলোচনার বার্তা পাঠায় কেন্দ্র সরকার। বেলা পৌনে বারোটা নাগাদ দলের মুখপাত্র Saurav Das সোশ্যাল মিডিয়ায় জানান, তিনি ও সহকর্মী মুখপাত্র Ashutosh Ranka BJP সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী J.P. Nadda-র সঙ্গে বৈঠকের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন। তাঁর কথায়, সরকার সকালেই আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে, তাঁদের দাবি স্পষ্ট, আর হাজার হাজার তরুণ-তরুণী জড়ো হয়েছেন। প্রাথমিকভাবে সরকারের তরফে জেলাশাসক বা সচিব পর্যায়ের আধিকারিকের সঙ্গে কথা বলার প্রস্তাব দেওয়া হলেও আন্দোলনকারীরা তা নাকচ করে দেন, দাবি জানান প্রধানমন্ত্রী বা অন্তত কোনও ক্যাবিনেট মন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি আলোচনার।
ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা, লাঠিচার্জ ও টিয়ার গ্যাস
বেলা সাড়ে এগারোটা নাগাদ আন্দোলনকারীরা হাই-সিকিউরিটি জোনে বসানো একাধিক ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করেন বলে সূত্রের খবর। রাইসিনা রোডেও ব্যারিকেড ভেঙে ফেলার ঘটনা ঘটে। পার্লামেন্ট স্ট্রিটের কাছে বাহিনী ফের লাঠিচার্জ চালায়, আর দুপুর সাড়ে বারোটা নাগাদ আন্দোলনকারীরা মিছিল ফের শুরু করার চেষ্টা করলে পুলিশ দ্বিতীয়বার লাঠিচার্জ করে বলে জানা গেছে। যদিও নয়াদিল্লি জেলার ডেপুটি কমিশনার অফ পুলিশ সচিন শর্মা দাবি করেছেন, এখনও পর্যন্ত কোনও আন্দোলনকারীর বিরুদ্ধে পুলিশ বলপ্রয়োগ করেনি— অর্থাৎ পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের বক্তব্যের মধ্যে স্পষ্ট ফারাক রয়েছে।
Police deploy tear gas at Jantar Mantar.
— Being Political (@BeingPolitical1) July 20, 2026
Protesters get close to Parliament, security tightened at every gate.pic.twitter.com/aYEF9HT843
ইন্টারনেট বন্ধের অভিযোগ CJP-র
আন্দোলনের মাঝেই CJP সোশ্যাল মিডিয়ায় অভিযোগ করে, দিল্লির একাংশে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, যার জেরে তারা ঘটনাস্থল থেকে হালনাগাদ তথ্য শেয়ার করতে পারছে না। দলের পোস্টে বলা হয়, ইন্টারনেট বন্ধ করা গেলেও আন্দোলনকারীদের চোখ-কান বন্ধ করা যাবে না। এছাড়া Dipke-র বরাত দিয়ে দাবি করা হয়েছে, জন্তর মন্তরের কাছে পাথর বোঝাই একটি ট্রাক দাঁড় করানো ছিল, যা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
Sonam Wangchuk-এর হাসপাতাল থেকে ছুটির আবেদন
জলবায়ু ও শিক্ষা আন্দোলনকারী Sonam Wangchuk তেইশ দিনের অনশনের পর দুদিন আগে থেকেই সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। সোমবার সকালে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে হাতে লেখা চিঠিতে তিনি অনুরোধ করেন, শারীরিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকায় তাঁকে সাময়িকভাবে ছাড় দেওয়া হোক যাতে তিনি মিছিলে অংশ নিতে পারেন। তাঁর স্ত্রী গীতাঞ্জলি জে আংমো ইতিমধ্যেই জন্তর মন্তরে গিয়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন।
সংহতি জানালেন অভিনেতা-রাজনীতিকরা
আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন বেশ কয়েকজন পরিচিত মুখও। অভিনেত্রী Shabana Azmi ও অভিনেতা Prakash Raj সরাসরি জন্তর মন্তরে হাজির হন সংহতি জানাতে। তাঁদের পাশাপাশি সাংসদ Manoj Jha ও Rajaram Singh-সহ একটি প্রতিনিধি দলের অনুরোধে AISA কর্মী নেহা, মণীশ ও আমিনও নিজেদের অনশন প্রত্যাহার করেন। সমাজবাদী পার্টির সাংসদ Dimple Yadav দলের নেতাদের নিয়ে সংসদ ভবন থেকে সরাসরি জন্তর মন্তর পর্যন্ত পদযাত্রা করে আন্দোলনকারীদের পাশে দাঁড়ান।
নিরাপত্তা ও সংসদের পরিস্থিতি
নয়াদিল্লি জেলা জুড়ে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারায় নিষেধাজ্ঞা জারি ছিল। প্রায় পাঁচ হাজার নিরাপত্তা কর্মী ও অ্যান্টি-রায়ট ভেহিকল মোতায়েন করা হয়েছিল সংসদ ভবন ঘিরে, সঙ্গে জারি ছিল ট্র্যাফিক অ্যাডভাইজরিও। এই গোটা ঘটনাপ্রবাহের মধ্যেই সোমবার লোকসভা ও রাজ্যসভা উভয়কক্ষের অধিবেশন বেলা দুটো পর্যন্ত মুলতুবি হয়ে যায়।
CJP-র মূল দাবি, জাতীয় পরীক্ষায় বারবার প্রশ্নফাঁস ও তার জেরে ছাত্র আত্মহত্যার দায় নিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। এই মুহূর্তে সবার নজর Nadda-CJP বৈঠকের দিকেই— আলোচনায় সমাধান সূত্র বের হয়, নাকি আন্দোলন আরও দীর্ঘায়িত হয়, রাজধানীর নজর এখন সেদিকেই।





