শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান-এর ইস্তফার পর কার্যত থেমে গিয়েছিল কক্রোচ জনতা পার্টি বা CJP-র আন্দোলন। কিন্তু সেই স্তব্ধতা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে সোশ্যাল মিডিয়ায় নতুন এক নাম নিয়ে হাজির হয়েছে আরও একটি ডিজিটাল আন্দোলন E20 Janta Party। এটি কোনও নির্বাচনী রাজনৈতিক দল নয়, বরং একটি সম্পূর্ণ Online Campaign, যার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে দেশে বিক্রি হওয়া E20 পেট্রোল নিয়ে সাধারণ ভোক্তাদের ক্ষোভ ও প্রশ্ন। শিক্ষা মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার পর কক্রোচ জনতা পার্টি নিজেদের আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেয়, আর তারই মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় দ্রুত ভাইরাল হতে শুরু করে ই২০ জনতা পার্টি নামে একটি নতুন ডিজিটাল আন্দোলন, যা মূলত ই২০ পেট্রোলের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া একটি অনলাইন ক্যাম্পেন।
কী চাইছে E20 Janta Party?
এই আন্দোলনের মূল দাবি স্পষ্ট এবং সীমিত। তারা কোনও ভর্তুকি, বিনামূল্যে জ্বালানি বা এমনকি ইথানল-মিশ্রিত পেট্রোল সম্পূর্ণ বন্ধ করার দাবিও তোলেনি। গোষ্ঠীটি স্পষ্ট জানিয়েছে যে তারা কোনও ভর্তুকি, বিনামূল্যে জ্বালানি বা ইথানল-মিশ্রিত পেট্রোল বন্ধ করার দাবি জানাচ্ছে না, বরং তাদের একমাত্র চাওয়া হল ভোক্তাদের নিজের জ্বালানি বেছে নেওয়ার অধিকার। অর্থাৎ, তাদের মূল বক্তব্য হল Consumer Choice বাজারে E20-র পাশাপাশি ১০০ শতাংশ খাঁটি, ইথানলবিহীন পেট্রোলেরও বিকল্প রাখা হোক।
এর পাশাপাশি আরও কিছু দাবি উঠে এসেছে আন্দোলনের পোস্টে। তারা আরও দাবি জানাচ্ছে যে জ্বালানির উপর স্পষ্ট লেবেলিং থাকুক, যাতে ক্রেতারা জানতে পারেন তারা ঠিক কী কিনছেন। সহজ কথায়, স্বচ্ছতা এবং তথ্যের অধিকারই এই আন্দোলনের কেন্দ্রীয় দর্শন।
নেপথ্যে কে? এখনও অজানা
সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হল, এই বিশাল ভাইরাল প্রতিক্রিয়া সত্ত্বেও E20 Janta Party-র পিছনে কে বা কারা রয়েছেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। এখনও পর্যন্ত ই২০ জনতা পার্টি কোনও আনুষ্ঠানিক সংগঠন নয় এবং এর কোনও ঘোষিত প্রতিষ্ঠাতাও সামনে আসেননি। সংগঠনের কোনও কাঠামো নেই, নেই কোনও রাজপথে নেমে আন্দোলনের ঘোষণাও। বরং এটি সম্পূর্ণভাবে Digital-First একটি উদ্যোগ, যা মূলত X (পূর্বতন Twitter) এবং Instagram-কেন্দ্রিক।
আন্দোলনের নিজস্ব হ্যান্ডেল থেকে প্রকাশিত একটি বিবৃতিতে অবশ্য নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করার চেষ্টা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, তারা কোনও রাজনৈতিক দল নয়, বরং সাধারণ মানুষের সমস্যা তুলে ধরা একটি স্বতন্ত্র নাগরিক আন্দোলন, যাদের লক্ষ্য স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, ভোক্তা অধিকার রক্ষা করা এবং দেশের জ্বালানি নীতির প্রকৃত প্রভাব নিয়ে খোলামেলা জনআলোচনা তৈরি করা।
ফলোয়ার বৃদ্ধির গতি নজরকাড়া
সাংগঠনিক কাঠামো না থাকা সত্ত্বেও, ফলোয়ার সংখ্যার নিরিখে এই আন্দোলনের গতি রীতিমতো তাক লাগানোর মতো। এক্স (টুইটার)-এ শুরু হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই আন্দোলন ২৫,০০০-এরও বেশি ফলোয়ার সংগ্রহ করে ফেলে। এর আগে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, খবর লেখা পর্যন্ত এক্স হ্যান্ডেলে প্রায় ১৩,০০০-এর বেশি এবং ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলে প্রায় ৮,৮০০-এর বেশি ফলোয়ার যুক্ত হয়েছিল। এই দ্রুত বর্ধনশীল সংখ্যা থেকেই স্পষ্ট, বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে একধরনের চাপা ক্ষোভ দীর্ঘদিন ধরেই জমে ছিল।
CJP-র ছায়া স্পষ্ট
লক্ষণীয় বিষয় হল, প্রচার-কৌশলের দিক থেকে E20 Janta Party-র সঙ্গে Cockroach Janta Party (CJP)-র বেশ কিছু মিল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে। সিজেপি-ও সোশ্যাল মিডিয়া, মিম এবং ব্যঙ্গের মাধ্যমে নিজেদের পরিচিতি তৈরি করেছিল, যা পরবর্তীতে নিট পেপার লিক বিরোধী একটি বড় আন্দোলনে রূপ নেয়। সেই একই ঘরানা অনুসরণ করেই এই নতুন আন্দোলনও এগোনোর চেষ্টা করছে বলে মনে করা হচ্ছে।
ভবিষ্যতে কোন দিকে গড়ায়?
এই মুহূর্তে E20 Janta Party সম্পূর্ণভাবে একটি সোশ্যাল মিডিয়া-নির্ভর প্রপঞ্চ, যার কোনও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নেই। তবে CJP-র নজির মাথায় রাখলে বলা যায়, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে শুরু হওয়া এই ধরনের নাগরিক ক্ষোভ কীভাবে দ্রুত বৃহত্তর গণআন্দোলনে রূপান্তরিত হতে পারে, তার একটি জ্বলন্ত উদাহরণ ইতিমধ্যেই দেশ দেখেছে। আগামী দিনে সরকার এই দাবির প্রতি কী প্রতিক্রিয়া জানায় এবং জ্বালানি নীতিতে স্বচ্ছতা সংক্রান্ত এই আলোচনা কতদূর এগোয়, তা সময়ই বলে দেবে। তবে একথা নিশ্চিত যে, ভোক্তা অধিকার এবং স্বচ্ছতার প্রশ্নে সাধারণ মানুষের সচেতনতা যে ক্রমশ বাড়ছে, তারই এক জ্বলন্ত প্রতিফলন এই নতুন ডিজিটাল আন্দোলন।